Home / অপরাধ / আপা কথায় কথায় রুটি বানানোর বেলনা দিয়ে মারপিট করত

আপা কথায় কথায় রুটি বানানোর বেলনা দিয়ে মারপিট করত

আমাকে ওই আপা (আঁখি) কথায় কথায় রুটি বানানোর বেলনা দিয়ে মারপিট করত। খাবার কম দিত। বাবা-মার সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে বসে থাকত, যেন কিছু না বলি। তিন দিন আমাকে টয়লেটে বন্দি করে রেখেছিল। আমি ওদের কাছে আর যাব না।’ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন গৃহকর্মী রেবা খাতুন(১২)।

সাভারের বাইপাইল এলাকায় গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হয়ে রেবা খাতুন (১২) নামে এক গৃহকর্মী চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার(৬মার্চ) রাতে অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গৃহকর্মী শিশুটি চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি কুঠিপাড়া গ্রামের দিনমজুর মো. নূর আলী ও নাসিমা খাতুনের মেয়ে। অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী সাভারের বাইপাইল এলাকার মোবাইল ব্যবসায়ী শাহীন আলমের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা আঁখি।

জানা গেছে, তিন মাস আগে তাদের দূর-সম্পর্কের আত্মীয় নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের আহসান হাবীব ও তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন তাদের মেয়ে আঁখি ও জামাই শাহীনের সাভারের ভাড়া বাসায় রেবাকে গৃহকর্মী হিসেবে রেখে আসেন। এর কিছুদিন পর থেকেই আঁখি বিভিন্ন অজুহাতে রেবাকে নির্যাতন করত।

মারধরের পাশাপাশি ভয় দেখাতে টয়লেটে বন্দি করে রাখা হতো। চাহিদামাফিক খেতে দেয়া হতো না। সম্প্রতি রেবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আঁখি তার মা শাহনাজ পারভীনের মাধ্যমে গত রবিবার গড়মাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে মোবাইলের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে রেবার স্বজনরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যেতে বলেন।

মঙ্গলবার সকালে শাহনাজ পারভীন রেবাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে এলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে রাতে তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

রেবার মা নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থা এমন ছিল না। তাকে নির্যাতন করে এমন করা হয়েছে। সারা শরীরের মারপিটের দাগ হয়ে আছে। আমরা গরিব মানুষ। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।’

অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী আঁখি খাতুনের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি সত্য নয়। মাঝেমধ্যে কথা না শুনলে আমার মেয়ে রেবাকে ভয় দেখাতো। সে আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। তাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসার সব খরচ বহন করতে চেয়েছি। তারপরেও আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে।

রেবা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া সে অপুষ্টিতেও ভুগছে বলে জানিয়েছেন চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.স.ম. বায়েজিদুল ইসলাম।

ঘটনাটি সাভার এলাকায় ঘটেছে উল্লেখ করে চাটমোহর থানার ওসি এসএম আহসান হাবীব বলেন, ‘সেখানকার থানায় অভিযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ওই পরিবারকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।

About myadmin

Check Also

ব্রেকিংঃ অবশেষে জানা গেল তাসপিয়াকে যেভাবে হত্যা করে আদনানের গ্রুপ

আদনান-তাসপিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ভালোভাবে নেয়নি তাসফিয়ার পরিবার। তাই আদনানকে ডেকে শাসায় তারা। আর এটাকে ভালোভাবে …