২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

কোচ এনে দাও কোটিপতি হয়ে যাও!

মার্চ ১৪, ২০১৮, সময় ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

কোচ এনে দাও, কোটিপতি হয়ে যাও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রায় এমনই একটি ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। অর্থাৎ জাতীয় দলের জন্য ভালো একজন কোচ এনে দিতে পারলেই মাধ্যম হিসেবে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের কমিশন দেবে বিসিবি।

বোর্ডের পরিচালক, দেশি-বিদেশি এজেন্ট, সাবেক খেলোয়াড় এমনকি কিছু সাংবাদিককেও বিসিবি এমনটা জানিয়ে রেখেছে। কিন্তু কিছুতেই ব্যাটে-বলে মিলছে না। অধিকাংশ হাই প্রোফাইল কোচ শুরুতেই না করে দিয়েছেন।

আবার যাদের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে তাদের অনেকে শেষ মুহূর্তে না করে দিচ্ছেন বা মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দাবি করছেন। এর আগে ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে মাইকেল বেভানের বাংলাদেশে আসা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

আসার দিনক্ষণও ঠিক ছিল। হঠাৎ করেই তিনি বেঁকে বসেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রধান কোচ হিসেবে ইংল্যান্ডের পল ফারব্রেসের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে না করে দিয়েছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত যিনিই কোচ হয়ে আসুন না কেন বিসিবির কিছু কর্মকর্তা ও পরিচালক এ নিয়োগ ঘিরে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান নিদাহাস ট্রফির জন্য দলের সঙ্গে শ্রীলংকায় গিয়ে বলেছিলেন, ‘এপ্রিলে নতুন কোচ যোগ দেবেন। নামটা সবারই চেনা।’ দু’দিন পর তিনিই সুর পাল্টে বলেন, ‘কোচ হওয়ার জন্য যারা আবেদন করেছেন তাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে।’

নাজমুল হাসানের নতুন ভাষ্যেই স্পষ্ট কোথাও সুর কেটে গেছে। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান কোচ হিসেবে পল ফারব্রেসের সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত হবে গিয়েছিল। গত সপ্তাহে চুক্তি সই করার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন ফারব্রেস।

কিন্তু চুক্তিপত্র পাঠানোর পর সাবেক ইংলিশ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বিসিবিকে জানান, এ মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না। তার পরিবার তাকে বাংলাদেশে এসে কাজ করতে দিতে রাজি নয়।

ফারব্রেস এখন ইংল্যান্ড দলের সহকারী কোচ। এর আগে তিনি শ্রীলংকা দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। এদিকে ব্যাটিং কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নীল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে কথাবার্তায় অনেক দূর এগিয়েছে বিসিবি।

এছাড়া স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে ভারতের সাবেক স্পিনার ও কোচ অনিল কুম্বলেকে পছন্দ বোর্ডের। তিনিও মোটা অঙ্কের বেতন দাবি করেছেন। তবে তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বোর্ড। প্রথম সারির যেসব কোচ আপাতত বেকার রয়েছেন তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই আলোচনা করেছে বিসিবি। কিন্তু অধিকাংশই বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী নন। কিংবা অনেক অর্থ দাবি করে বসেন।

বিসিবিও তাই বুঝতে পেরেছে শীর্ষ সারির কোনো কোচকে আনা সম্ভব নয়। তবে প্রথম সারির পরের ধাপের কোচদের পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বোর্ড। কোচ যে-ই হোক না কেন তাকে যে মোটা অঙ্কের বেতন দিতে হবে সেটা নিশ্চিত। আর এ সুযোগে মোটা অঙ্কের কমিশন পকেটে ভরার অপেক্ষায় রয়েছে একটি পক্ষ।