২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

চলন্ত বাসে ধর্ষিতার পরিবার পাবে সেই বাস

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, সময় ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

টাঙ্গাইলে বহুল আলোচিত চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী গণধর্ষণের পর সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। যে বাসে এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছিল সেই ছোঁয়া পরিবহনের বাসটি নিহত রূপার পরিবারকে সাতদিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ আদেশ দেন।

সারা দেশে আলোচিত ওই ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান (৪৫), হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)। সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) সাত বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজকের এই ঘোষণার মাধ্যমে মাত্র ১৭২ দিনের মধ্যে শেষ হল আলোচিত এই মামলার বিচার কার্যক্রম। আসামিরা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ কে এম নাছিমুল আক্তার। তাকে সহায়তা করেন মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী এস আকবর খান, মানবাধিকারকর্মী এম এ করিম মিয়া ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আজাদ। আসামিপক্ষে ছিলেন শামীম চৌধুরী দয়াল ও দেলোয়ার হোসেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে বাস চালক ও তার সহযোগীরা। পরে তার লাশ ফেলে দেয় পঁচিশ মাইল এলাকায়। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বাদি হয়ে এ ঘটনার মামলা করে। ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজের ছাত্রী রূপা একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায়।

এ ঘটনায় ছোঁয়া পরিবহনের ড্রাইভার হাবিবুর রহমান, সুপারভাইজার সফর আলী, হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ জনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গত ৩ জানুয়ারি বাদির সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। চিকিৎসকসহ ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয় ২৩ জানুয়ারি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবুল মনসুর রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।