২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

তারেকের বাসায় বৈঠক, কঠিন সিদ্ধান্তে বিএনপি

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮, সময় ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। এ কারণে দেশে-বিদেশে এ রায় নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিএনপি এই রায়ের প্রেক্ষিতে কি করবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড রকম সঙ্কা কাছ করছে। দেশে যেমন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো বৈঠক করছে, অন্যদিকে বিদেশেও এই রায়ের বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী রাজনীতিবিদেরাও বৈঠক করে চলেছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন প্রতিবেদন অনুয়ায়ী জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের লন্ডনের বাসায় গত ২৭ জানুয়ারি একটি বৈঠকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে এবং তাকে গ্রেফতার পূর্বক কারাগারে পাঠানো হলে সেই দিন থেকেই সরকার পতনের একদফার দাবিতে দেশে-বিদেশে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ওেই প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ওই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডনের বাসায় করা সেই বৈঠকে যুক্তরাজ্য বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর ১০ থেকে ১২ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এ বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ও তাকে কারাগারে পাঠানো হলে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট, হাউজ অব কমন্স, ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ,
অফিসসহ লন্ডনে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সামনে মানববন্ধনসহ স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি অনুরুপ কর্মসূচি ইউরোপীয়
ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোয় পালন করারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার ওই গোপন প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনটির ওপর ভিত্তি করে দেশের জন্য করণীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গত ৩১ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংস্থাটির সব ইউনিটে এ ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের লন্ডনের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বাংলাদেশে জোর আন্দোলনের কৌশল হিসেবে বর্তমান সরকারকে খুনি এবং নির্যাতনকারী হিসেবে বহি:বিশ্বের দেশের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা চালানো হবে। এই বৈঠকে আন্দোলনকারী বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো রকম হামলা, গুলি চালায়, তাহলে আন্দোলনকারী কর্মীদের মধ্য থেকে নিজেরাই নিজেদের কোনো নের্তা কর্মীকে কিংবা নিরীহ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করবে।

আর এর দায় চাপানো হবে বর্তমান সরকারের ওপর। যার মাধ্যমে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনকে বেগবান করা হবে।

এমনকি ওই বৈঠকে আন্দোলন কর্মসূচি পালনকারী নেতাকর্মী গ্রেফতার হলে তাদের পরিবারকে লন্ডন থেকে বিভিন্ন চ্যারিটির মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের উৎসাহ দেয়ার কথাও সিদ্ধান্ত হয় বলে গোয়েন্দা সংস্থার গোপন ওই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।