২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

নেপাল থেকে ফোন : ‘মা আমি বেঁচে আছি’

মার্চ ১৩, ২০১৮, সময় ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

‘‘আমার ছেলে যখন নেপাল থেকে ফোন দেয় তখন আমি ধরতে পারিনি। পরে ফোনে মেসেজ দিয়ে জানায় ‘মা আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি।’’ কথাগুলো বলেছেন নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বিমানের যাত্রীদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া মেহেদী হাসান মাসুমের মা মমতাজ বেগম।

ভ্রমণের জন্য হিমালয়ের দেশ নেপালে গিয়েছিলেন গাজীপুরের নগরহাওলা গ্রামের একই পরিবারের পাঁচজন। সোমবার (১২ মার্চ) তাদের বহনকারী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ফটোগ্রাফার ফারুক আহমেদ প্রিয়ক (৩২) ও তার মেয়ে তামাররা প্রিয়ক (৩)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ফারুকের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি (২৫), ফারুকের মামাতো ভাই নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান মাসুম (৩৩) ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। আর মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন।

মাসুমের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে যখন আমাকে ফোন দেয় আমি তখন ধরতে পারিনি। পরে আমাকে মেসেজ দিয়েছে। লিখেছে, ‘মা আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি। আমার ছেলে মোটামুটি সুস্থ। ছেলের বউ ও আমার ভাগিনার বউ হাসপাতালে। কিন্তু ভাগিনা (ফারুক) ও ভাগিনার ছোট মেয়ে (তামাররা) মারা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ওরা পাঁচজন ভ্রমণের উদ্দেশে নেপালে গিয়েছিল। আমার ছেলের বিয়ে হয়েছে এক বছর হলো। বউ ডাক্তারি পড়ে। তার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেয় ঘুরতে যাবে। তাই নেপালে ঘুরতে গিয়েছিল।’

মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলের বউয়ের শারীরিক অবস্থা জানতে সকালের ফ্লাইটে সেখানে বউয়ের মা আর ছেলের পক্ষ থেকে বন্ধুরা নেপালে গিয়েছে। দুপুরে ছেলের বাবা ও আমার মেয়ের জামাই সেখানে যাবে। সবাই আমার ছেলে ও ছেলের বউয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে নিহত ফারুকের চাচাতো ভাই লুৎফর রহমান বলেন, ‘ফারুক তার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে এবং মামাতো ভাই মাসুম ও তার স্ত্রী মোট পাঁচজন নেপালে গিয়েছিল। পাঁচজনের মধ্যে ফারুকের বউ, মামাতো ভাই মাসুম ও মাসুমের স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফারুক ও তার মেয়ে তামররা মারা গেছে। তারা ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই সেখানে গিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুপুর আড়াইটার একটু পরেই দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। আমি মোটরসাইকেলে করে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে একজন আমাকে ফোন করে বলে আপনার নম্বরটা আমি একজনকে দিয়েছি, তিনি আপনাকে ফোন করবেন। আমি বললাম কে ফোন করবেন?

তিনি বললেন, ফারুক ও তার স্ত্রীর টিকিটটি আমার নম্বর দিয়ে করা ছিল। আমার মোবাইল নম্বর সেখানে দেওয়া ছিল। ইউএস বাংলা থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে জানতে পারি তারা দুর্ঘটনায় পড়েছে। পরে আমরা টিভি ও ইন্টারনেটে খবর নিয়ে নিশ্চিত হই, ওই বিমানেই ফারুকসহ পাঁচজন ছিল। ছয়দিন পর তাদের ফেরার কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনের ফুটেজ দেখে আমরা হতাহতদের ব্যাপারে নিশ্চিত হই। ফারুকের বউ ও মেহেদী হাসান মাসুমকে ক্যামেরার সামনে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। অনেক টিভি চ্যানেলেই তাদেরকে দেখিয়েছে। পরে মাসুম তার মাকে ফোন করে বলে সে সুস্থ আছে, ভালো আছে। কিন্তু ফারুক ভাই ও তার মেয়েকে পাচ্ছি না। মাসুমের স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও ফারুকে স্ত্রী অ্যানি হাসপাতালে ভর্তি।’