২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

পিয়ন থেকে কোটিপতি, আওয়ামী লীগের মনোয়ন চান মাসুদ

মার্চ ২৬, ২০১৮, সময় ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আয়কর অফিসে ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পিয়ন ছিলেন মাসুদুর রহমান। বর্তমানে আঙুল ফুলে কলাগাছ। এখন তিনি কোটি কোটি টাকাল মালিক। প্রাডো গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি ঢাকায় ও নিজ গ্রামে বহু জায়গা-জমি, ফ্ল্যাট ও একাধিক দামি গাড়ির মালিক তিনি।









স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, যেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে ১০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। সেখানেও তার একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেটি তিনি পিয়নের চাকরি ছাড়ার পর ২০১০ সালে খোলেন। আধুনিক মডেলের একাধিক প্রাইভেটকার ও রয়েছে তার। কয়েক বছর আগে একটি প্রথম শ্রেণির জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয় মাসুদুর রহমানের আঙ্গুল ফুরে কলাগাছ হওয়ার কাহিনী।









আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবার আলোচনায় এসেছেন সেই মাসুদুর রহমান। তিনি গত রবিবার (১৮ মার্চ) সরাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন দলের মনোনয়ন চাওয়ার কথা এলাকাবাসীকে জানাতে।









বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে নিয়ে মাসুদ এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হওয়ার কারণে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠে।

সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থগিত হওয়া কমিটির বহিষ্কৃত সভাপতি আবদুল হালিম, সহ-সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ইসমত আলী, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজ আলী, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফেজুল আসাদ সিজার সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে সঙ্গে ছিলেন । এরা সবাই এলাকায় বিতর্কিত এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।









সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ লালন করে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করেছি। মুক্তিযোদ্ধা যুবকমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি কেন্দ্রীয় কমিটির সংকেত পেয়েই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি।









নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, মাসুদ কী ছিলেন সরাইলের সবাই সেটা জানে। বিএনপি আমলে হাওয়া ভবনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে কথিত বৃটিশ আমলের পিলার ব্যবসা করে পিয়ন থেকে কোটিপতি হয়ে যান মাসুদ। তিনি এখন আওয়ামী লীগ নেতা। আসলে টাকা হলে সবই সম্ভব।

ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার বাদী ও তার ছোট ভাই মো. জাহাঙ্গীর আজাদ জানান, যে কেউই মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতার কথা জানানোর বিষয়টি দুঃখজনক।

মাসুদুর রহমান সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে। এসব বিষয়ে মাসুদুর রহমান মাসুদের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।