২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

বিজ্ঞান ও আল-কুরআন যেখানে ওতপ্রোত জড়িত!

মার্চ ৮, ২০১৮, সময় ২:২৯ পূর্বাহ্ণ

জ্ঞানগর্ভ কিতাব আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা অসংখ্য বৈজ্ঞানিক ঐশী তথ্যের উল্লেখ করেছেন। আল্লাহতায়ালা মানুষকে যে সীমাবদ্ধ জ্ঞানদান করেছেন তার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জ্ঞানী মানুষেরা যেন এইসব তথ্য সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে মহাজ্ঞানী আল্লাহর অসীম জ্ঞানের কথা উপলব্ধি করার সাথে সাথে প্রকৃত সত্যের সন্ধান লাভ করতে পারে সেজন্য বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি যুগ যুগ ধরে মানুষকে সঠিকভাবে জ্ঞানবিজ্ঞান সাধনার প্রতি উৎসাহিত করে আসছে। পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক তথ্যসমৃদ্ধ আয়াতগুলোর মধ্য থেকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি বিষয়ক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আয়াতের বাংলা আনুবাদ এই আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসাথে মহাবিশ্ব সম্পর্কে বর্তমান যুগের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও ধ্যান-ধারণা (স্টিফেন ডব্লু হকিং-এর সাড়া জাগানো গবেষণা-ধর্মী (A Brief History of Time) এবং (Black hole And Baby Universes And Other Essays) শত্রুজিত দাশগুপ্ত- কর্তৃক বাংলায় অনুবাদকৃত (কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস) ও (কৃষ্ণগহ্বর এবং শিশু-মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনানামক পুস্তক দুটি থেকে সংগৃহিত ) এবং পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্‌ প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ইংগিতের সাথে সমন্বয় সৃষ্টির সাথে সাথে আমার নিজস্ব কিছু বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশই এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু। প্রকৃত খবর মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন।

মহাবিশ্ব সৃষ্টির আধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হলো বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব । ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী জর্জ লেমিটর প্রথম এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তাঁর মতে সৃষ্টির আদিতে মহাবিশ্বের সকল বস্তু আন্তঃআকর্ষণে পুঞ্জীভূত হয় এবং একটি বৃহৎ পরমাণুতে পরিণত হয়। এই পরমাণুটি পরে বিস্ফোরিত হয়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়।

দেড় হাজার বছর আগে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র আল-কুরআন যা বলেছেন, ‘সত্য প্রত্যাখানকারীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলি ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অত:পর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম। ‘ – সূরা আম্বিয়া:৩০

আয়াতটির অর্থ পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র একসময় একজায়গায় পুঞ্জিভূত ছিল। এবং পরে এদের আলাদা করা হয় অর্থাৎ প্রত্যেকের আলাদাভাবে জন্ম হয়। বিগ ব্যাং অর্থাৎ মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের অনুসিদ্ধান্ত। কেন্দ্রবিমুখী বল শূন্য হয়ে যাওয়ার ফলে অনবরত দূরে সরে যাওয়া গ্রহ নক্ষত্রগুলো একসময় আবার কাছাকাছি আসা শুরু করবে এবং সময়ের ব্যাবধানে সব গ্রহ নক্ষত্র আবার একত্রে মিলিত হয়ে একটা পিন্ডে পরিনত হবে। এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, “সেই দিন আকাশমন্ডলীকে গুটিয়ে ফেলব, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর”।-সূরা আম্বিয়া : ১০৪

পবিত্র আল-কুরআন নিঃসন্দেহে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ঐশী গ্রন্থ। আল-কুরআনের বহু বাণী বিজ্ঞানসংক্রান্ত। সবগুলো এখনো পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা- নিরীক্ষা দ্বারা যাচাই করা সম্ভব না হলেও, প্রায় ৮০ থেকে ৯০% ই সত্য বলেই প্রমাণিত হয়েছে। বাকিগুলো যাচাই করার সামর্থ্য বা শক্তি বিজ্ঞান এখনো অর্জন করতে পারেনি। আল-কুরআন শুধুমাত্র বিজ্ঞানসংক্রান্ত গ্রন্থ নয় বরং মানব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত নানামুখী জ্ঞানের ভান্ডার।