২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

মাহিমকে নিয়ে পাইলট আবিদ সুলতানের স্বপ্ন পূরণ হলো না!

মার্চ ১৪, ২০১৮, সময় ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

‘অনেক স্বপ্ন ছিল পাইলট আবিদ সুলতানের। একমাত্র সন্তান জামবিন সুলতান মাহিমকে পাইলট বানিয়ে তবেই অবসরে যাবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই অকালে পরপারে চলে যেত হলো তাঁকে। তাঁকে ছাড়া আমরা কী করে বাঁচব জানি না। আর মাহিম কি পাইলট হতে পারবে? তা-ও জানি না। তাঁর মৃত্যুতে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। অসময়ে এভাবে আবিদের চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।

শুধু দোয়া করবেন ও যেন জান্নাতবাসী হয়।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরায় নিজ বাসায় কথাগুলো বলছিলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পাইলট আবিদের শোকাহত স্ত্রী আফসানা খানম টনি। গতকাল সকালে আবিদের মৃত্যুর খবর শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাসায় ভিড় জমিয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছে। স্বজনরা জানায়, আবিদের বাবাও পাইলট ছিলেন। বাবার মতোই একজন দক্ষ পাইলট ছিলেন তিনি। ৩২ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো প্রকার সম্পদের মালিক হননি। ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন

তিনি। এদিকে ইউএস-বাংলার কেবিন ক্রু নাবিলার পরিবারেও চলছে মাতম। তাঁর একমাত্র সন্তান মাকে হারানোর পাশাপাশি ঘটেছে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এক দূরসম্পর্কীয় আত্মীয় গৃহকর্মীকে ফুঁসলিয়ে শিশুটিকে অন্যত্র নিয়ে গেছে। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত করতে হয়েছে। শেষে গতকাল দুপুরে ঢাকার ভাসানটেকে নানির বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

আরেকদিকে পরিকল্পনা কমিশনের সহকারী প্রধান উম্মে সালমাকে হারিয়ে স্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা কাঁদতেও যেন ভুলে গেছে। গতকাল তাঁর দক্ষিণখানের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, আড়াই বছরের শিশু সামারা ইতিউতি মাকে খুঁজছে। ‘আম্মু, আম্মু’ বলে কাঁদছে। মায়ের ছবিতে চুমু খাচ্ছে। স্বজনরা তাকে কোলে নিয়ে সামলানোর চেষ্টা করছে। লাশ আনতে তাঁর স্বামী ও বড় ভাই নেপাল গেছেন।

নেপালে সোমবার ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর বেঁচে ছিলেন ওই বিমানের পাইলট আবিদ সুলতান। আবিদ সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এমন আশায় বুক বেঁধে ছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু আবিদ আর ফিরলেন না। গতকাল সকালে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে পরিবারের কাছে। সে খবরে অন্ধকার নেমে আসে পরিবারটির ওপর।

abid
সেই থেকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাসায় চলছে মাতম। গতকাল দুপুরে আবিদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়। ছেলে জামবিন সুলতান মাহিমের গলা জড়িয়ে কাঁদছেন মা। বাবাহারা সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভাবনায় ব্যাকুল তিনি। তিনি বলেন, ‘তাঁর এই চলে যাওয়া কল্পনাতীত। ও খুব ইনোসেন্ট ও দক্ষ ছিল। দোয়া চাই, ওপারে ভালো থাকুক আবিদ। আবিদ সুলতানের বাবা এম ও কাশেমও পাইলট ছিলেন। আবিদরা পাঁচ ভাই। খুরশিদ মাহমুদ, সুলতান মাহমুদ, সেলিম মাহমুদ ও আমির মাহমুদ—সবাই প্রতিষ্ঠিত।’