২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক! ছোট ভাইকেই মেরে ফেরলেন বড় ভাই

মার্চ ২১, ২০১৮, সময় ৫:১০ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে, এমন সন্দেহের বশে তান্ত্রিক শ্বশুরকে সঙ্গী করে নিজের ভাইকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল দাদা৷ অভিযুক্ত দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারী থানার পাতরা গ্রামের৷

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম- রামকৃষ্ণ মালিক এবং তার শ্বশুর, তান্ত্রিক তড়িৎ বাগদী ওরফে জিত৷ ধৃতদের বুধবার বর্ধমান আদালতে তোলা হলে পুলিশ ৫দিনের পুলিশি হেফাজত চায়৷ বিচারক ৪দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছেন৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রোববার বেহুলা নদী থেকে রাজা মালিকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের বাবা জগবন্ধু মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রামকৃষ্ণের শ্বশুর তড়িত বাগদীকে প্রথমে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আটক করে মৃতের দাদা রামকৃষ্ণকেও। কিন্তু উভয়েই পুলিশকে খুনের ঘটনা অস্বীকার করে বিভ্রান্ত করতে থাকে। এরপরই মেমারী থানার পুলিশ অভিনব উপায় অবলম্বন করেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথমে ধৃতদের মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং খতিয়ে দেখা হয়৷ এমনকি লকআপের সামনে থেকে পুলিশকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই খুনের ঘটনায় লকআপের ভেতরে পরস্পরকে দোষারোপ করতে শুরু করে। আর তারপরেই তাদের গ্রেফতার করা হয়৷ পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতরা খুনের কথা কবুলও করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত রাজা মালিকের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করতে শুরু করে রামকৃষ্ণ। এরপরই তাকে সরিয়ে দেবার পরিকল্পনা করে সে৷

এবিষয়ে সে নিজের শ্বশুর, পেশায় তান্ত্রিক তড়িত বাগদীর সঙ্গে শলা পরামর্শ করে। ঘটনার দিন ফোন করে বাড়ি থেকে রাজা মালিককে একটি ফাঁকা জায়গায় ডেকে পাঠায় রামকৃষ্ণ। এরপরই তার মাথায় আঘাত করে। মাটিতে পড়ে গেলে তার হাত পা মুখ বেঁধে একটি বাঁশের সঙ্গে বেঁধে তাকে জীবন্ত অবস্থায় বেহুলা নদীতে ফেলে দিয়ে আসে অভিযুক্তরা। পরে গ্রামবাসীরাই রাজার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷