২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে যা বলল বিএনপি

মার্চ ২৭, ২০১৮, সময় ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

২৯ মার্চের জনসভার অনুমতি প্রদান পুর্নবিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী। প্রতিনিধি দলটি বেলা ১১টায় সচিবালয়ে স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে আসেন। বের হন ১১ টা ৪০ মিনিটে।

এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্ত আছে। আমরা কয়েকবার এটার তারিখ ঘোষণা করেছিলাম, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় আমরা তা করতে পারিনি। আগামী ২৯ তারিখে এ সভাটা করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য এসেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সভা করার ব্যাপারে সাধারণভাবে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আজকেই কথা বলবো। কথা বলে উনি আমাদেরকে জানাবেন। আমরাও তার কথার জন্য অপেক্ষা করব।

তিনি বলেন, আমরা প্রাসঙ্গিক অনেক বিষয়ে তার সাথে আলাপ করেছি। প্রচুর গ্রেফতার হচ্ছে, নানা রকমের নিপীড়ন হচ্ছে। বিশেষকরে আমাদের দলের অনেক নারী কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। দীর্ঘদিন অনেকে কারাগারে ছিল, কেউ কেউ এখনও আছে। আর অতি সাধারণ কর্মী, যারা গরীব তারাও প্রচুর গ্রেফতার হচ্ছে, তারা কষ্ট পাচ্ছে। আমরা বলেছি, আমাদেরকে গ্রেফতার করুন, কিন্তু সাধারণ কর্মীরা, বিশেষ করে নারী কর্মীদের এত বেশী সংখ্যাক গ্রেফতার করা হচ্ছে, তারা কষ্ট পাচ্ছে, এটা বন্ধ করুন।

তিনি বলেন, উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এটা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন। উনি বলেছেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রেসপন্স পজেটিভ বলে মন্তব্য করেন নজরুন ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। তবে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে আপনারা আশাবাদী কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনিতো (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আপত্তি করলেন না। বললেন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে আমাদেরকে জানাবেন। আসলে আশাবাদীতো সব মানুষেরই হওয়া উচিৎ। কিন্তু নিরাশার অনেক ঘটনা আমাদের আছে। আমরা আরও নিরাশ হব, এটা আশা করি না। কিন্তু যে পর্যন্ত না আমরা ইতিবাচক ফল না পাই, সে পর্যন্ত খুব বেশী আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বারবার ডিএমপির কাছে দরখাস্ত করেছি, কিন্তু অনুমতি পাইনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিএমপির ওপরের অফিস। সেজন্য আমরা এখানে আসলাম। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তারপরেও যদি না হয়, তাহলে আর কি করা যায়? আমরাতো রক্ত দিয়ে একটি স্বাধীন করা দেশে গনতন্ত্রের অনুশীলন করতে চাই, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চাই। গণতন্ত্র অনুশীলনে সরকারের সহযোগীতা পাওয়া যাবে না, এটা যাতে ভবিষ্যতে না হয়, সে চেষ্টার জন্য আমরা আসলাম।