২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

৭৬ বছর বয়সে বিদায় নিলেন পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং

মার্চ ১৪, ২০১৮, সময় ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

৭৬ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটলো পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসের। প্রফেসর হকিংস এর সন্তান লুসি রবার্ট এবং টিম আজ এক বার্তায় বলেন, আমরা গভীর শোকের সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের প্রিয় বাবা আর আমাদের সাথে নেই। তিনি প্রয়াত হয়েছেন।

তারা আরো বলেন, ‘তিনি একজন মহান বিজ্ঞানী এবং বিশেষ অভিজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তার সাহস এবং অধ্যাবসায় সারা পৃথিবীর মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে । তিনি একবার বলেছিলেন, এটা খুব একটা ভালো পৃথিবী হত না যদি না এতে বসবাসকারীদের তোমরা না ভালবাসতে। আমরা তাকে সবসময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবো।’

হকিং এর অদ্ভূত বিচার বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং সেন্স অফ হিউমার তাঁর ভাঙা শরীরের বাধা পেরিয়ে তাকে সারাবিশ্বের মানুষের জন্য এক অমোঘ অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

হকিং মাত্র ২১ বছর বয়সে ওয়াগনার নামের একটি রোগে আক্রান্ত ছিলেন যা পরে মোটর নিউরোন রোগে পরিণত হয়। ডাক্তাররা ভেবেছিলেন মাত্র ২ বছর বাঁচবেন তিনি। তবে হকিং এর রোগটি ধীরে ধীরে ছড়াতে থাকে। ফলে তার বাঁচার নেশাও তীব্র হয়ে ওঠে।

অক্সফোর্ডে হকিংসের পড়াশোনা। সেখানেও তিনি ‘ঐতিহাসিক’ ছাত্র হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তার সম্বন্ধে বলা হয়ে থাকে তিনি আন্ডারগ্রাজুয়েট অবস্থার তিন বছরে মাত্র ১০০০ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যয় করেছিলেন।

তিনি এ বিষয়ে আত্মজীবনীতে তিনি বলেছেন, ‘তোমাকে কম চেষ্টা করতে হলে হয় খুব ব্রিলিয়ান্ট হতে হবে নাহয় তোমার নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে হবে।’

চীনের বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘টেনসেন্ট ডব্লিউ ই’ শীর্ষ সম্মেলনে এক ভিডিও বার্তায় স্টিফেন হকিং ২০১৭ সালের নভেম্বরে বলেন, হাতে সময় আছে ৬০০ বছরেরও কম। এর মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে পৃথিবীর আয়ু। দ্রুত হারে জন বিস্ফোরণের জন্য শক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

তার জেরে বাড়ছে উষ্ণায়নের মাত্রা। তার ফলে আগামী ২৬০০ সালের মধ্যে এই গ্রহ পুরোমাত্রায় অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হয়ে বাসযোগ্য থাকবে না। প্রতিকার হিসেবে পৃথিবীর বিকল্প খুঁজে যেখানে চলে যেতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর বই ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম।’ এছাড়াও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওরিটিক্যাল কসমোলোজি গবেষণা সেন্টারের ডিরেক্টর ছিলেন হকিং।