Home / অপরাধ / খাটের নিচে স্ত্রী-কন্যার লাশ, উপরে বিরিয়ানির প্যাকেট-মদের বোতল!

খাটের নিচে স্ত্রী-কন্যার লাশ, উপরে বিরিয়ানির প্যাকেট-মদের বোতল!

শনিবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখেছিলো পূজাকে তার প্রতিবেশীরা। তারপরে আর তাকে দেখেনি তারা। পরের দিনও পূজাকে পরীক্ষা দিতে যেতে দেখেননি তাঁরা। কাকতালীয় ভাবে ওই দু’দিন দেখা যায়নি তার মা মিঠু দেবনাথকেও। তাই জল্পনাটা বেশ ছড়িয়েই পড়েছিল।

সোমবার বিকেলে তাই পূজার বাবাকে সামনে পেয়েই এ-সব নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন তাঁরা। জানতে চেয়েছিলেন স্ত্রী-মেয়ের খবর। প্রথমে আমতা আমতা করে দু’চার কথা বললেও, পরে ছুটে বাড়ির মধ্যে ঢুকে যান বছর চল্লিশের শেখর দেবনাথ।

তখনই শেখরের পিছু নেন প্রতিবেশীরা। বাড়ির দরজা ভেঙেই ঘরে ঢোকেন তাঁরা। দেখা যায়, খাটের উপর থেকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন শেখর। প্রতিবেশীরা তাঁকে নিরস্ত করেন। কিন্তু, ঘরময় বোঁটকা গন্ধটাও নাকে আসছিল। কীসের গন্ধ? কেনই বা শেখর আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গেলেন? এ সব নিয়ে প্রশ্ন শুরু করতেই ভেঙে পড়েন শেখর। জানান, স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে তিনি খাটের তলায় রেখে দিয়েছেন। চমকে ওঠেন প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

শেখরের কথা মতো খাটের তলা থেকে উদ্ধার করা হয় মিঠু দেবনাথ (৩৫) এবং তাঁর মেয়ে পূজার প্ল্যাস্টিকে মোড়া মৃতদেহ। সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া থানার বিশ্বাসহাটি এলাকায়। জখম শেখরকে প্রথমে মছলন্দপুর ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থীতিশীল।

পুলিশের কাছে জেরায় শেখর স্বীকার করেছেন, তিনিই স্ত্রী-মেয়েকে মেরেছেন। কী ভাবে? শনিবার পূজা পরীক্ষা দিয়ে বাড়ির ফেরার সময় তার মা বাড়িতে ছিল না। সেই সময় শেখর প্রথমে ভারী কাঠের টুকরো দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পূজা। এর পর তার গলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে স্বাসরোধ করা হয়। কিছু ক্ষণ পর মিঠুদেবী বাড়ি ফিরলে তাঁকেও একই কায়দায় মারেন শেখর। তার পর প্লাস্টিকে দেহ দু’টি মুড়ে ঘরের খাটের তলায় রেখে দেন। এ দিন দেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে ওই ঘর থেকে বিরিয়ানির প্যাকেট এবং মদের বোতলও পেয়েছে পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানান বেশ কিছু দিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। বাজারে অনেক টাকা দেনাও হয়ে গিয়েছিল। প্রতিবেশীরা জানান, প্রথমে ব্যাগ তৈরির কারখানা ছিল শেখরের। সেটি উঠে যাওয়ার পর কাপড় সেলাইয়ের কারবার শুরু করেছিলেন। কিন্তু, বছর খানেক আগে সেটিও উঠে যায়। চিটফান্ড সংস্থায় রাখার ফলে বেশ কিছু টাকা লোকসান করেছিলেন। তার উপর বাড়ি করার জন্য অনেক টাকা ধারও হয়ে গিয়েছিল।

এ সবের জন্যই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন শেখর— অনুমান প্রতিবেশীদের। আর স্ত্রী-মেয়েকে খুনের প্রসঙ্গে শেখরের স্বীকারোক্তি, ‘‘এ ভাবে বাঁচা যায় না। আমি মরে গেলে ওদের কী হতো। তাই এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম।

About admin

Check Also

ব্রেকিংঃ অবশেষে জানা গেল তাসপিয়াকে যেভাবে হত্যা করে আদনানের গ্রুপ

আদনান-তাসপিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ভালোভাবে নেয়নি তাসফিয়ার পরিবার। তাই আদনানকে ডেকে শাসায় তারা। আর এটাকে ভালোভাবে …