Home / অপরাধ / দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী লাপাত্তা! বিপাকে..

দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী লাপাত্তা! বিপাকে..









টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাহাদত হোসেন ও তার স্ত্রী মিনা সাহাদত প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সদরের বাইমহাটী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

বাইমহাটী গ্রামের প্রফেসর পাড়া ও মাস্টার পাড়ার ভুক্তভোগীরা জানান, সাহাদত হোসেন ও তার স্ত্রী মিনা সাহাদত এলাকার দরিদ্র ও দিনমজুর নারীদের বিভিন্নভাবে ফুঁসলিয়ে বিভিন্ন এনজিওর সদস্য করেন। পরে ওই সদস্যদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন তোলেন। সেখান থেকে ৫/১০ হাজার টাকা এনজিও সদস্যদের দেন এবং বাকি টাকা মিনা হাতিয়ে নেন। এভাবে প্রায় অর্ধশত দরিদ্র নারীর নামে লোন তুলে লাখ লাখ টাকা নিয়ে গত দুই সপ্তাহ আগে চম্পট দেন তারা। গত দুই সপ্তাহ ধরে এনজিও কর্মীরা লোন নেয়া ওইসব সদস্যদের কাছে কিস্তির টাকা তুলতে আসলে দরিদ্র নারীরা বিপাকে পড়েন।









স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহাদত-মিনা দম্পতি সাহাদত বাইমহাটী গ্রামের সামাদ মিয়ার স্ত্রী কুলসুম বেগমের এনজিও থেকে ৫০ হাজার ও নগদ ৪০ হাজার, শহীদ মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের ১০ হাজার, শহীদ মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ১ লাখ ৬০ হাজার, তুষার মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগমের ১০ হাজার, ছোরহাব মিয়ার ৫০ হাজার, বাবুলের স্ত্রী জোৎস্না বেগমের ১ লাখ ৬০ হাজার, নুরুল ইসলামের স্ত্রী আছমা বেগমের নগদ ১ লাখ ও ব্রাক এনজিও থেকে ১ লাখ, বাবুলের স্ত্রী সেলিনা বেগমের ১ লাখ ৩০ হাজার, কালামের স্ত্রী লাইলীর ৩০ হাজার, আছলামের স্ত্রী হাছনা বেগমের নগদ ৫৫ হাজার ও এনজিওর ৪০ হাজার, মুছা মিয়ার স্ত্রী রাশেদা বেগমের ৭০ হাজার, আলমগীরের স্ত্রী রুনুর ৪০ হাজার করিমের স্ত্রী হাসিনা বেগমের ৭০ হাজার, রাশেদার ৫৫ হাজার, সাইদুলের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের ১ লাখ ৫০ হাজার, রাজীব চৌধুরীর ৫২ হাজার টাকাসহ ওই গ্রামের অর্ধশত নারীর কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাইমহাটী পশ্চিম পাড়া গ্রামের শারিমন বেগম জানান, মিনা সাহাদত ও তার স্বামী সাহাদত হোসেন তাদের বসত ঘরসহ বাড়ি বিক্রির জন্য ছয় লাখ টাকা বায়নাও নিয়েছেন। বায়নার টাকা নিলেও তারা দলিল না করে দিয়েই বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন।









নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুষ্টকামুরী গ্রামের এক ব্যবসায়ী জানান, মিনা সাহাদত ও তার স্বামী সাহাদত হোসেন তার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা সুদে ধার নিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে মিনা সাহাদতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির গেটে তালা ঝুলছে। বাড়ির সামনে কয়েকজন পাওনাদার দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পাশেই মৃত সামাদ মিয়ার স্ত্রী কুলসুম বেগম ও মজিদ মিয়ার মেয়ে ফতেহ কান্না করছেন।

তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই। মিনা সাহাদত লোভ দেখিয়ে এনজিও থেকে আমাদের নামে লোন তুলে সে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এনজিও কর্মীরা টাকার জন্য বার বার আমাদের বাড়ি আসছে।

এ বিষয়ে সাহাদত হোসেন ও মিনা সাহাদতের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

সেতু এনজিওর সহকারী ম্যানেজার মো. সরোয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মিনা সাহাদত তাদের এনজিও থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লোন নিয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন সদস্যের লোনের বিষয়ে মিনা সুপারিশও করেছেন।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।









About myadmin

Check Also

স্ত্রীকে মেরে জেলে স্বামী, ছাড়িয়ে আনলেন নির্যাতিতা নিজেই

প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন অটোরিকশাচালক স্বামী মো: মাসুদ। এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো দূরের কথা …