Home / জাতীয় / মানুষ সাধে কি আর ঢাকায় আসে!

মানুষ সাধে কি আর ঢাকায় আসে!









ঢাকায় আপনি কত বছর?

বছর পাঁচেক হইব। বাড়ি আমার রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায়। গ্রাম থাইকা আইসা উঠছিলাম সাভারে। সেখানে রঙের কাজ করতাম। রঙের কাজ বাদ দিয়া এখন ঝালমুড়ি বিক্রি করি।

রঙের কাজ বাদ দিলেন কেন?

তিন বছর ধইরা রঙের কাজ শিখছি। কখনো কোনো বিপদ হয় নাই। এক দিন চারতলায় রঙের কাজ করতাছি। নিচ থাইকা একজন ডাক দিছে, যে-ই নিচে তাকাইছি না ক্যান, অমনি একটা ঝাঁকি দিয়া পইড়া গেছি। পইড়া গিয়া দুই পিলারের মাঝখানে পড়ছি। আর এক-দুই ইঞ্চি এদিক-ওদিক হইলেই পিলারের রড শরীরে ঢুইকা যাইত। ডান পায়ে একটা রড ঢুকছিল, সেই থাইকা আমার পা আর কাজ করে না। এক পা পঙ্গু হইয়া গেছে।

দুর্ঘটনার পর কী হলো?

এরপর আমার সঙ্গের লোকজন আমারে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে দুই মাস আছিলাম। সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করছি। যে মালিকের কাজ করতাম, আমি দুর্ঘটনায় পর হ্যায় পালাইছিল। লোকজন বলার পরও কোনো টাকা-পয়সা দেয় নাই। ধার-দেনা কইরা টাকা জোগাইছি। পায়ের চিকিত্সায় সব টাকা শেষ করছি। এখন তো আমি নিঃস্ব।









গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে এলেন যে?

মানুষ সাধে কি আর ঢাকায় আসে! গ্রামে কিছু জমিজমা আছে। এই জমিতে শুধু একটা আবাদ হয়। বাকি সময় খালি পইড়া থাকে। এই আবাদে পোষায় না। তাই কিছু রোজগারের আশায় ঢাকায় আসছিলাম। আইসাই তো বিপদে পড়ছিলাম। এখনো পায়ে ব্যথা করে, উঁচা থাইকা নিচে নামতে গেলে কষ্ট হয়। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, ডাক্তার কইছে হাসপাতালে আরো এক মাস থাকতে হইব। হাজার বিশেক টাকা লাগব; কিন্তু আমার কাছে এত টাকা নাই। তা ছাড়া আমি হাসপাতালে থাকলে সংসার চলব কী কইরা।

এই ব্যবসা কেমন চলছে?

ভালো না। ঘুইরা ঘুইরা বিক্রি করতে পারলে ভালো হইত; কিন্তু পায়ের কারণে তো আমি হাঁটতে পারি না। এক জায়গায়ই দাঁড়ায়ে বিক্রি করি। সারা দিনে তিন-চার শ টাকার মতো থাকে। আমার দুই মেয়ে, এক ছেলে। ছেলেটা ছোট, মেয়ে দুইটা লেখাপড়া করে। বড় মেয়ে এইবার আইএ পরীক্ষা দিব। প্রতি মাসে তার ৮০০ টাকা প্রাইভেট পড়ানোর খরচ লাগে। এ মাসে মেয়ের প্রাইভেট পড়ানোর খরচ দিতে পারি নাই, এই নিয়া মাইয়া আমার ওপর রাগ করছে।









পুরো পরিবার নিয়ে কি ঢাকায় থাকেন?

না, আমি মতিঝিলে এক মেসে থাকি। সারা দিন বাইরে বাইরে ঘুরি, রাতে গিয়া ঘুমাইয়া থাকি। নিজে চলতে পারি না তো পুরো পরিবার নিয়া ঢাকায় থাকব ক্যামনে? টাকা জমাইয়া বাড়ি যাই। দু-এক দিন থাইকা আবার চইলা আসি।

সাক্ষাত্কার গ্রহণে : কবীর আলমগীর

ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন









About myadmin

Check Also

আপনার আদরের ছোট্ট সন্তানটি কেমন থাকছে কাজের লোকের কাছে?

অনেক কর্মরত দম্পতি নিজ বাসায় বলতে গেলে কাজের লোকের ওপরই নির্ভরশীল। আপনার আদরের ছোট্ট সন্তানটি …