Home / জাতীয় / বের হচ্ছে পোকা; মুক্তামনির হাতের ছবি দেখে যা বললো ডা. শামন্ত লাল

বের হচ্ছে পোকা; মুক্তামনির হাতের ছবি দেখে যা বললো ডা. শামন্ত লাল

বিরল এক রোগে আকান্ত হয়ে গত বছরের ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হয় মুক্তামনি। তার মা-বাবা মেয়েকে সুস্থ করার জন্য স্থানীয় এবং ঢাকার অনেক চিকিৎসকের কাছে গেছেন। কিছুতেই যেনও কিছু হচ্ছে না। দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে মুক্তামনির হাত।









প্রথম দিকে কোনও চিকিৎসকই তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। এরপর বেশ কিছুদিন বাড়িতেই ছিল সে। তাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট মুক্তামনির চিকিৎসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসা নেবার সুযোগ হয়। পরে ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। এরইমধ্যে মুক্তামনির চিকিৎসার সব ধরনের খরচের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুক্তামনির হাতে ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। এসময় তার হাতের ফোলা ভারি অংশ অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দু’দফায় তার হাতে লাগানো হয়।









বর্তমানে ভালো নেই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবাইশা গ্রামের ১২ বছরের আলোচিত কিশোরী মুক্তা মনি। ব্যথার যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত কান্না করছে সে। এলাকায় কেউ কান্না করলে সবাই বুঝতে পারে হয়তো হাতের যন্ত্রণা বেড়েছে মুক্তার। আগের চেয়ে তার হাতটি এখন আরও ফুলে গেছে।

১০ দিন আগে হাতের নিচের অংশ নিয়ে জমাট বাঁধা রক্ত বের হওয়া শুরু করে। সেটি ড্রেসিং করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ৩৮টি বড় পোকা বের হয়ে আসে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে তার পরিবারটি।









চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর আর আসা হয়নি তাদের। এ সময়টার মধ্যে বেশ কয়েকবার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. শামন্ত লাল সেন ও ডাক্তার শারমিন সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মুক্তার বাবা ইব্রাহিম হোসেন।

মুক্তার হাতের অবস্থা খারাপ দেখে ১৫ দিন আগে ডা. শামন্ত লাল সেনের ফোনে কল করেন ইব্রাহিম। এ সময় তিনি মুক্তার দুটি ছবি পাঠানোর কথা বলেন। পরে ডাক্তার শারমিন সুমির ইমোতে দুটি ছবি পাঠান ইব্রাহিম হোসেন। ছবি দেখে হাতে অবস্থা খারাপ বলে জানান তারা। তবে পুনরায় ঢাকা যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেননি তারা।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন এ কথা গুলো বলেন আজ।









তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে যে ব্যান্ডেজ করে দেয়া হয়েছে সেটি খোলা যায়। রিলিজ দেয়ার সময় আমাকে বলে দেয়া হয়েছিল মাঝে মধ্যে যেন সেটি খুলে পরিষ্কার করে দেই। যখনই খুলে দেই কিছুক্ষণ পর দেখি হাতটি ফুলে গিয়ে মোটা হয়ে যায়। ওটা না খুলে দিলে হাতটি পচে যাবে।

তিনি আরও বলেন, দুই দফায় অপারেশনে হাতটি থেকে যা কিছু অপসারণ করা হয়েছি তা ইতোমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে। এখন আরও গন্ধ বেড়েছে। প্রতিনিয়ত রক্ত পড়ছে। পোকা বের হওয়ার পর এলাকার ছেলে-মেয়েরা তার কাছে আর ভয়ে যেতে চায় না।

ইব্রাহিম হোসেন বলেন, সম্ভবত মুক্তার এ হাত আর ভালো হবে না। সংবাদমাধ্যম বিষয়টা প্রচার করার পর ডাক্তাররা অনেক গুরুত্ব দিয়েছে মুক্তাকে। তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে মুক্তার জন্য। তাদের আন্তরিকতার কমতি ছিল তা আমি নিজে দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীও মুক্তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছে। মুক্তা ভালো হলে নিয়ে যেতাম প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে। কিন্তু সে তো আর ভালো হবে। তার হাত দেখেই বোঝা যাচ্ছে।









তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যান্ডেজ খুলে দেখলাম তার পুরো হাতটি পচে গেছে। গন্ধ বের হচ্ছে অনেক। বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না। কান্না করতে করতে মুক্তার বাবা বলেন, আমরা মুক্তার আশা ছেড়ে দিয়েছি ভাই।তবে

মুক্তা মনির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার জানান, মুক্তামনির হাতটি ভালবাবে ড্রেসিং করা হয়েছে এ সমস্যা দূর হতে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

About myadmin

Check Also

আপনার আদরের ছোট্ট সন্তানটি কেমন থাকছে কাজের লোকের কাছে?

অনেক কর্মরত দম্পতি নিজ বাসায় বলতে গেলে কাজের লোকের ওপরই নির্ভরশীল। আপনার আদরের ছোট্ট সন্তানটি …